২০ অভারে ২৩৬ রান করলো বাংলাদেশ! ওডিআই নয় টি-২০

 



হেরে গেলে বিদায় নিশ্চিত – এমন চাপেই কি ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং?


রাওয়ালপিন্ডির কালো পিচে ব্যাটিং একেবারে সহজ হচ্ছে না ঠিকই, তবে খুব কঠিনও বলা যাবে না। বাউন্ডারি কিছুটা বড়। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা এবং তাঁদের চেয়েও বেশি করে ফিল্ডাররা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আরও কঠিন করে দিয়েছেন। তবে রাওয়ালপিন্ডিতে আজ টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামতে হওয়ার পর বাংলাদেশ যে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৩৬ রানের বেশি করতে পারেনি, তার পেছনে পিচ, বোলিং-ফিল্ডিংয়ের চেয়েও বড় ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং।


অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ফিফটি পেয়েছেন, তবে ধীরগতিতে পাওয়া সে ফিফটিই বাংলাদেশের ইনিংসের সুর ধরে রেখেছে। শেষ দিকে জাকের আলী অনিক ৫৫ বলে ৪৫ রান করেছেন, কিন্তু ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে তিনি তাড়াহুড়ো করে অযথা সিঙ্গেল নিতে গিয়ে আউট না হলে হয়তো বাংলাদেশের রান আরও কিছু বেশিই হতো। এর বাইরে অন্যদের দিকে তাকাবেন? হতাশা আরও বাড়বে!



ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেলেননি, দলের পক্ষ থেকে জানানো হলো, তিনি চোটে ভুগছিলেন। আজ ফিট হওয়া মাহমুদউল্লাহকে ফেরাতে দলের ব্যাটিং অর্ডারই ওলট পালট করে ফেলা হলো। আগের ম্যাচে রান না পেলেও বাংলাদেশের হয়ে গত বছরখানেকে ফর্মে থাকা ওপেনার সৌম্য সরকারকে বাদ দিয়ে, ওপেনিং জুটিসহ পুরো ব্যাটিং অর্ডার বদলে মাহমুদউল্লাহকে দলে ফেরানো হলো। তার ফল? মাহমুদউল্লাহ ১৪ বলে ৩ রান করে অদ্ভুতভাবে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৩০ গজের ভেতরেই ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন।


এ তো গেল এক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের কথা, আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম তো বছরখানেক ধরেই ফর্মে নেই। আজও ৫ বলে ২ রান করে আউট হয়ে গেছেন – ওয়ানডেতে টানা তৃতীয় ম্যাচে আউট হলেন এক অঙ্কে। আউটটাও কীভাবে? রান পাচ্ছিলেন না দেখে স্লগ করতে গিয়েছিলেন, বাউন্ডারিতে ধরা পড়লেন।



মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ আউট হলেন এমন এক সময়ে, যখন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান তাওহীদ হৃদয়ের উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ আগে থেকেই ধুঁকছে। দুই সিনিয়র ক্রিকেটার অভিজ্ঞতার ছাপ রাখা তো দূরের কথা, উল্টো অযথা শটে আউট হয়ে দলকে বিপদে ঠেলে দিয়ে গেলেন। এক পর্যায়ে ৯৭/২ থেকে দ্রুতই হৃদয়-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহকে হারিয়ে বাংলাদেশ হয়ে পড়ে ১১৮/৫!


এরপর ষষ্ঠ উইকেটে জাকের আর শান্তর ৬৭ বলে ৪৫ রানের জুটি ইনিংসে কিছুটা স্থিতি এনেছে, শান্ত আউট হওয়ার পর রিশাদ ২৫ বলে ২৬ রানে গতি জোগানোর চেষ্টা করেছেন। বাকি পথটুকুতে জাকেরের ওপর ভরসা ছিল। তাঁর ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, লোয়ার অর্ডারকে নিয়ে আর কিছু করার নেই দেখে তিনি মূলত শেষ দু-তিন ওভারেই আগ্রাসী হওয়ার টার্গেট করছেন। কিন্তু করতে আর পারলেন কই, এক মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্তে অযথা সিঙ্গেল নিতে গিয়ে জাকের আউট হয়ে গেলেন। বাংলাদেশের আর ২৫০-ও ছোঁয়া হলো না।


অথচ আজ বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। তানজিদ তামিম শুরুতে কিছুটা আগ্রাসন দেখিয়েছেন, সৌম্য না থাকায় ওপেনিংয়ে নামা শান্তও পরে যোগ দিয়েছেন। নবম ওভারে তামিমের (২৪ বলে ২৪) বিদায়ে যখন ওপেনিং জুটি ভাঙছে, দলের রান ৪৫। পাওয়ার প্লে-র ১০ ওভার শেষে রান ছিল ১ উইকেটে ৫৮। কিন্তু তিনে উঠে আসা মেহেদি হাসান মিরাজ আরেকবার তাঁর ব্যাটিং অর্ডারে উন্নতির যুক্তি দেখাতে ব্যর্থ, ১৩ রান করে আউট হয়েছেন।



এরপরই একেবারে খোলসে ঢুকে গেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। একদিকে স্যান্টনার-ব্রেসওয়েলদের স্পিন আর গতির তারতম্য একেবারেই হাত খুলতে দেয়নি, আর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও আরেকবার বুঝিয়ে গেলেন, চাপে পড়লে সিঙ্গেল-ডাবল বের করার সামর্থ – হয়তো ফিটনেসও – তাঁদের অন্তত বৈশ্বিক মানের সঙ্গে তাল মেলানোর মতো নয়। ২৫তম ওভার যেতে না যেতেই বাংলাদেশের ইনিংসে ডট বল হয়ে গেল ৯৭টি! ইনিংস শেষে দেখা যাচ্ছে, ডট বল ১৮১টি! ৫০ ওভারের ম্যাচে ৩০ ওভারই ডট! এর আগে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেও ১৫৯টি ডট দিয়েছে বাংলাদেশ।  


একদিক থেকে দেখলে আজ সে হিসেবে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিই খেলেছে। ৩০ ওভার ডট দিয়ে বাকি ২০ ওভারে ২৩৬ রান, মন্দ নয়!

Comments

Popular posts from this blog

৯২ মিনিটে ফাহিমকে স্লাইড ট্যাকেল, পেনাল্টি ছিল নাকি জানালেন ফিফার স্বীকৃত রেফারি

টি২০ র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০ নাম্বারে থাকা বাংলাদেশকে ১ নাম্বারে আনতে নতুন সভাপতি বুলবুল স্কোয়াডে আনছে ১ জন অবহেলিত হার্ড হিটারকে

৪৭ বলে ৭৩ রান করা তামিমকে নিয়ে যা বললেন শ্রীলঙ্কার কোচ সানাথ জয়াসুরিয়া